খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ আগষ্ট ২০২৬ , ০১:৫৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিতর্কে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার জন্য গঠিত নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার পর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তীব্র বিরোধিতার মুখে ফিফা প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

প্রস্তাবটি প্রকাশের পর ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (UEFA), উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন (CONCACAF) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC)-এর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সদস্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়নি। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে এমন সিদ্ধান্তে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা উচিত ছিল।

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে মরক্কোতে ফিফার একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, প্রস্তাবটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা যথাযথভাবে পরিচালিত হয়নি। এজন্য সদস্য দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কের জেরে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ইউরোপের কিছু ফুটবল কর্মকর্তা তার পদত্যাগ দাবি করেন এবং সাবেক পর্তুগিজ তারকা লুইস ফিগো প্রকাশ্যে বলেন, ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় এসেছে। সমালোচকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাটি ফিফার সুশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে জরুরি বৈঠকের পর ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। সংস্থাটি জানায়, সভাপতি হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনায় যে ভুল হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক নয়; এটি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। ২০২৭ সালে ফিফা সভাপতির নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিতর্ক ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ফিফা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সদস্য ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আরও বিস্তৃত আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে সংস্থার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা পর্যালোচনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।